
সুনামগঞ্জের দিরাই পৌরসভার ভরারগাঁও গোফরাঘাট জলমহালে মাছ লুটের ঘটনায় অজ্ঞাত ২ হাজার জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ৮ জনকে।
বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) কচুয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি লংকেশ্বর দাস খোকার বাদি হয়ে দিরাই থানায় এ মামলা দায়ের করেছেন।
আটককৃতরা হলেন ১। জীবন রায়, ২। এরশাদ মিয়া, ৩। হুমায়ূন, ৪। বাধন বৈষ্ণব, ৫। সমরিন বৈষ্ণব, ৬। মৃদুল বৈষ্ণব, ৭। পিন্টু তালুকদার ও ৮। মৃদুল দাস।
পুলিশ জানায়, মামলার বাদী অভিযোগে উল্লেখ করেস বুধবার (৫ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে সংঘবদ্ধভাবে প্রায় দুই হাজার লোক জলমহালে প্রবেশ করে অনুমান এক কোটি টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী লংকেশ্বর দাস খোকা তার এজাহারে আরো উল্লেখ করেন, কচুয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জলমহালের ইজারা গ্রহণ করে এবং নিয়মিত খাজনা, ভ্যাট পরিশোধ করে মাছ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা চালিয়ে আসছিল। গত দুই বছর ধরে জলমহালটিকে মাছের অভয়ারণ্য হিসেবে রাখা হয়েছিল। কিন্তু বুধবার সকালে দিরাই থানার কল্যাণী গ্রামের কয়েকহাজার লোক জলমহালে প্রবেশ করে অবৈধভাবে মাছ ধরতে শুরু করে। জলমহালে থাকা আইড়, বোয়াল, রুই, কাতলা, কার্পু, গ্রাস কার্পসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ অবৈধভাবে ধরে নিয়ে যায় তারা। লুটপাটের খবর পেয়ে দিরাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৮ জনকে আটক করে।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় এজাহারনামীয় ২২ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই হাজার ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৮ জনকে গ্রেফতার করে হয়েছে। জেলার অন্যান্য বিল থেকে যারা অবৈধভাবে মাছ আহরণের চেষ্টা করছেন, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে
উল্লেখ গেলো ৫ দিনে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় জলমহালের কোটি কোটি টাকার মাছ লুটছেন গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। দিনে দিরাই ও শাল্লা জামালগঞ্জে ১২টির বেশি জলমহাল থেকে স্থানীয় লোকজন মাছ লুটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মৎসজীবী সমবায় সমিতির নামে এসব জলমহালগুলো ইজারা থাকলেও মূলত নিয়ন্ত্রণে ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা ও প্রভাবশালীরা। আওয়ামী লীগের এসব নেতারা পলাতক থাকার সুযোগ নিচ্ছেন স্থানীয়রা।