• ৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ২২শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ৭ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ট্রেন হাইজ্যাক

সব যাত্রী মুক্ত, নিহত ২৮ সেনা সদস্য

AMZAD
প্রকাশিত ১৩ মার্চ, বৃহস্পতিবার, ২০২৫ ০০:০৫:৫৬
<h6>পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ট্রেন হাইজ্যাক</h6> <h4>সব যাত্রী মুক্ত, নিহত ২৮ সেনা সদস্য</h4>

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর হামলায় জিম্মি হওয়া সব যাত্রীকে মুক্ত করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় ২৮ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার বেলুচিস্তানের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জাফর এক্সপ্রেস ট্রেনটি হাইজ্যাক করে বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। হামলার সময় ট্রেনটিতে থাকা ৪৫০ জনের বেশি যাত্রী জিম্মি হয়ে পড়েন।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশন্স (আইএসপিআর)-এর ডিরেক্টর জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বুধবার নিশ্চিত করেছেন যে, সন্ত্রাসীদের হাত থেকে সব যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানান, অভিযানে ৩৩ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে, তবে চার ফ্রন্টিয়ার কর্পস সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।

হামলার বিবরণ

লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী জানান, ১১ মার্চ বোলান জেলার রেললাইনে হামলা চালিয়ে জাফর এক্সপ্রেস থামিয়ে যাত্রীদের জিম্মি করা হয়। জিম্মিদের—যাদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও ছিল—মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

সন্ত্রাসীরা জিম্মিদের বিভিন্ন দলে ভাগ করে তাদের মধ্যে আত্মঘাতী হামলাকারীদের বসিয়ে দেয়। নিরাপত্তা বাহিনীর স্নাইপাররা আত্মঘাতী হামলাকারীদের নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়।

পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামলাকারীরা আফগানিস্তানে তাদের হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছিল।

এক সেনা কর্মকর্তা এএফপি-কে জানিয়েছেন, অভিযানে ৩৪৬ জন জিম্মিকে মুক্ত করা হয়েছে এবং ৩০ জনের বেশি সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। ট্রেনটিতে থাকা ছুটিকালীন ২৭ জন সেনাকে সন্ত্রাসীরা হত্যা করেছে, আর অভিযানের সময় আরও একজন সেনা নিহত হন।

বিএলএ’র দায় স্বীকার ও হামলার ভিডিও প্রকাশ

হামলার দায় স্বীকার করে বিএলএ। তারা একটি ভিডিও প্রকাশ করে যেখানে ট্র্যাক বিস্ফোরণ ও ট্রেনে সশস্ত্র হামলার দৃশ্য দেখা যায়। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিনিময়ে তারা তাদের জেলবন্দি সদস্যদের মুক্তি চায়।

সরকারি প্রতিক্রিয়া

পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া জানায়, উদ্ধার অভিযান চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ পর্যন্ত ১৯০ জন যাত্রীকে মুক্ত করা হয়েছে, তবে কিছু সন্ত্রাসী এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।

রেলওয়ে মন্ত্রী বিলাল আজহার কায়ানি বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে অভিযান চালিয়েছি যাতে প্রাণহানি কম হয়। তবে কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।”

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ হামলার নিন্দা জানিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এই কাপুরুষোচিত হামলা পাকিস্তানের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারবে না। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যারা সহিংসতা চালায়, তাদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।”

সূত্র: এএফপি, ডন, জিও নিউজ