• ৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ২২শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ৭ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি

তুরাব বিহীন বিষাদময় ঈদ

AMZAD
প্রকাশিত ১৮ মার্চ, মঙ্গলবার, ২০২৫ ২০:০৩:৫১
তুরাব বিহীন বিষাদময় ঈদ

মো. ফয়ছল আলম :

রমজান শেষ হচ্ছে। ঈদ আসছে। বার বার মনে পড়ছে তুরাবের কথা। তুরাব বলতে এটিএম তুরাব। সিলেটের সাংবাদিকতার অঙ্গনে অল্প সময়ে জ¦লসে উঠা এক সম্ভাবনাময় সাংবাদিক। গণমানুষের মুক্তির আন্দোলনের মিছিল কাভার করতে গিয়ে পুলিশের রোষানলে গুলিতে প্রাণ হারায় আমার প্রিয় ভাইটি। গত রমজানে তুরাবের বাসায় এক টেবিলে বল তাদের তিন ভাইয়ের সঙ্গে ইফতারের কথা বার বার মনে পড়ছে। আর অসংখ্য স্মৃতি জাগছে মনে। কিভাবে তুরাবকে বিয়ানীবাজার থেকে সিলেট শহরে সাংবাদিকতায় নিয়ে এলাম। কিভাবে ভাই ভাই বলে আমাকে প্রাণ ভরে ডাকতো। কিভাবে সে সাংবাদিকতায় পর পর দুটি জাতীয় পুরস্কার লাভ করলো। আবার কিভাবেই হারিয়ে গেলো আমাদের মাঝ থেকে।

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান সিরেটের মেধাবী সাংবাদিক এটিএম তুরাব। ওইদিন জুমআর নামাযের পর সিলেট নগরের কোর্ট পয়েন্ট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি। উত্তেজনাকর দিনগুলোতে অন্যান্য সাংবাদিকের সঙ্গে এ মিছিলে ছবি তুলছিলেন এটিএম তুরাব। হঠাৎ এডিসি সাদেক কাওসার দস্তগীরের নেতৃত্বে থাকা পুলিশ বহর থেকে বুলেট এসে ঝাঝরা করে দেয় তুরাবের দেহের সম্মুখভাগ। মুহুর্তেই মাঠিতে লুটিয়ে পড়েন তুরাব। সহকর্মী মাহমুদ, রাব্বি, রেজা রুবেল, আজমলসহ অন্যরা তাকে নিয়ে দ্রæত ছুটেন ওসমানী হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে চিকিৎসার বেহাল অবস্থা দেখে দ্রæত তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় সিলেট নগরের সোবহানীঘাটস্থ ইবনে সিনা হাসপাতালে। সেখানে ঘন্টাখানেক মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে চিরদিনের জন্য বিদায় নেন সিলেটের সাংবাদিকতা অঙ্গনের প্রিয় এবং পরিচিতি মুখ এটিএম তুরাব। দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার সিলেট প্রতিনিধি এবং দৈনিক জালালাবাদের ফটো সাংবাদিক এটিএম তুরাবের মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েন সিলেটের গোটা সাংবাদিক সমাজ। সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্বশীল ৭ টি সংগঠনের ব্যানারে সিলেটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। এরপর ধারাবাহিক নানা কর্মসূচি পালিত হয়।

তুরাব হত্যাকান্ডের পর সুরতহাল রিপোর্ট পাল্টানোর প্রচেষ্টা থেকে নানা অপতপরতা ভাবিয়ে তুলে সাংবাদিক সমাজকে। পরিবার বা সহকর্মীদের মামলা না নিয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশ এ ঘটনায় নিজেরা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। পরে সিলেটের সাংবাদিক সমাজের সিদ্ধান্ত মোতাবেক নিহত এটিএম তুরাবের ভাই আবুল হাসান মোহাম্মদ আযরফ (জাবুর) বাদী হয়ে আদালতে দস্তগীরসহ ১৮জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। সে মামলায়ও চলে গড়ি মসি। এক পর্যায়ে সরকারের পতনের পর মামলার তদন্তভার দেয়া হয় পিবিআইকে। তারা তদন্ত কাজ শুরু করেন। প্রথম দিকে আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশের উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেলেও শেষমেষ এ মামলার দুই আসামী এডিসি দস্তগীর এবং কনস্টেবল উজ্জলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

গত বছর সরকার পতন আন্দোলনে সিলেটে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এ আন্দোলনের মাঠে সাংবাদিক এটিএম তুরাবের মৃত্যুর ঘটনা ব্যাপক ভাবে আলোচিত হয়। এ হত্যাকান্ডের সুস্ঠু তদন্ত ও বিচার দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষমান সিলেটের সাংবাদিক সমাজ।

উল্লেখ্য সাংবাদিক এটিএম তুরাব এর আগে গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার সংবাদ এবং ‘সপ্তাহজুড়ে’ পত্রিকায় কাজ করেন। তিনি ‘চ্যানেল এস’ কিছুদিন কাজ করেন। সাংবাদিক তুরাব বিয়ানীবাজার উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের মরহুম মাস্টার আব্দুর রহীমের কনিষ্টের পুত্র। মৃত্যুর প্রায় তিনমাস আগে তিনি বিয়ে করেন। তিনভাই এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ট।

লেখক: সদস্য, সিলেট প্রেসক্লাব