• ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ৬ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি

ভারতে হিন্দু-মুসলমান সহিংসতা, কারফিউ জারি

AMZAD
প্রকাশিত ১৮ মার্চ, মঙ্গলবার, ২০২৫ ১৬:০৭:২৫
ভারতে হিন্দু-মুসলমান সহিংসতা, কারফিউ জারি

ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় সোমবার (১৭ মার্চ) রাত থেকে হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় ব্যাপক পাথর ছোড়াছুড়ি, দোকান ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে এবং পরে কারফিউ জারি করে।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর বরাতে বিবিসি বাংলা জানায়, নাগপুরের মহাল এলাকায় সন্ধ্যায় সংঘর্ষ শুরু হয়, যা পরে কোতোয়ালি ও গণেশপেঠ এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে। হাজারের বেশি মানুষ জড়িত ছিল এ সহিংসতায়, যেখানে পুলিশের ওপরও পাথর নিক্ষেপ করা হয়। ঘটনায় ছয়জন সাধারণ নাগরিক ও তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) ভোর পর্যন্ত পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২০ জনকে আটক করে।

সোমবার দুপুরে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বজরং দল আওরঙ্গজেবের কবর সরানোর দাবিতে বিক্ষোভ করে, যেখানে আওরঙ্গজেবের একটি ছবি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যেই গুজব ছড়ায় যে বিক্ষোভ চলাকালে কোরআন পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। পরে এ বিষয়ে পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়।মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের মন্ত্রী যোগেশ কদম জানিয়েছেন, সহিংসতার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং এখন পর্যন্ত ৪৭ জনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসলেও কারফিউ বহাল রয়েছে।

নাগপুর পুলিশের ডেপুটি কমিশনার অর্চিত চন্দক জানিয়েছেন, একটি গুজব থেকেই এ সহিংসতা শুরু হয়। জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “গুজবে কান দেবেন না, ঘর থেকে বের হবেন না, সহিংসতায় জড়াবেন না।”চিটনিস পার্ক থেকে শুখরাওয়ারি তালাও রোড পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সহিংসতা দেখা যায়। সেখানে একদল লোক আবাসিক ভবন ও গাড়ির ওপর পাথর নিক্ষেপ করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। হনসাপুরি এলাকাতেও একই ধরনের হামলা হয়, যেখানে এক দোকানি আগুন নেভাতে গেলে তাকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়।শহরের অন্যান্য এলাকায় জনজীবন স্বাভাবিক থাকলেও সংঘর্ষপ্রবণ এলাকাগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নাগরিকদের অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। প্রশাসন জানিয়েছে, সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।