সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ঈদের ছুটিতে নেমেছে পর্যটকদের ঢল। ঈদের পরদিন থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভ্রমণপ্রেমীরা ছুটে আসছেন সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে। বিশেষ করে কোম্পানীগঞ্জের সাদা পাথর, গোয়াইনঘাটের জাফলং, জৈন্তাপুরের লালাখালসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর ভিড় জমেছে।
পর্যটকরা দলবদ্ধভাবে আসার পাশাপাশি পরিবার-পরিজন নিয়েও ভ্রমণে বেরিয়েছেন। দিনভর তারা পাহাড়, পাথর ও স্বচ্ছ জলের মোহনায় প্রকৃতির রূপ উপভোগ করে সন্ধ্যায় ফিরে যাচ্ছেন গন্তব্যে। জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল সোয়াম ফরেস্ট, পানতুমাই ঝরনা, জাফলং চা বাগান ও মায়াবী ঝরনাতেও উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
ঢাকা থেকে আসা এক পর্যটক জানান, জাফলংয়ের পাহাড় আর স্বচ্ছ জলের সমাহার দেখে তারা মুগ্ধ। ঈদের ছুটিকে স্মরণীয় করে রাখতে বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সঙ্গে প্রকৃতির সান্নিধ্যে এসেছেন তারা। পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতির ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও লাভবান হচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটকদের আনাগোনায় তাদের বেচাকেনা বেড়েছে এবং স্থানীয় অর্থনীতিও চাঙা হয়েছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি মিডিয়া সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিনোদন কেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। পর্যটকদের কোনো সমস্যা হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনও পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুন্নাহার জানিয়েছেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা মাঠে রয়েছে। পার্কিং সুবিধা, নৌকা চলাচল ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায়ও প্রশাসন তৎপর রয়েছে।
পর্যটকদের নিরাপদ ও আনন্দময় ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা একযোগে কাজ করছে। ফলে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই পর্যটকরা নির্বিঘ্নে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছেন। ঈদের ছুটিতে সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলো উৎসবের আমেজে মুখরিত হয়ে উঠেছে।