
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার বুধবারীবাজার ইউনিয়নের কালিজুরী গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসী হামলায় আহত এমরান ফানু (৫৫) নামের এক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (০১ এপ্রিল) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত এমরান ফানু উপজেলার বুধবারীবাজার ইউনিয়নের কালিজুরী গ্রামের মৃত আরব আলীর ছেলে। এ হামলার ঘটনায় তার আরেক ভাই সাহিদুল ইসলামও আহত হন।
নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আতিকুর রহমান। এ ঘটনায় তাদের বোন সেলি বেগম বাদী হয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
উল্লেখ, গত ২২ মার্চ বিকেল ৪টার দিকে বুধবারীবাজারের পূবালী ব্যাংকের সামনে কালিজুরী গ্রামের জড়ন মিয়ার পুত্র কামরান হোসেন এর সাথে সাহিদুল ইসলামের কথা কাটাকাটি হয়। এই জের ধরে ওইদিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কালিজুরী গ্রামের ফিরোজ আলীর ছেলে কয়েছ আহমদ, একই গ্রামের মৃত হাছন আলীর ছেলে বুরহান উদ্দিন, বুরহান উদ্দিনের ছেলে আবিদ হোসেন, ফিরোজ আলীর ছেলে বিলাল উদ্দিন, হুছন আলীর ছেলে রেহান উদ্দিন এবং জড়ন মিয়া সহ বেশ কয়েকজনকে নিয়ে কামরান হোসেন দেশীয় অস্ত্র সজ্জিত হয়ে সাহিদুল ইসলামের বাড়িতে এসে হামলা করেন। এসময় তারা সাহিদুল ইসলামের প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ ভাই এমরান ফানুকে হামলা করে বাম চোখ নষ্ট করে দেন। এবং তার মাথায় গুরুতর জখম করেন। এ হাামলায় সাহিদুল ইসলামকেও আহত করা হয়। এছাড়াও ঘরের কয়েকজন মহিলার উপরেও হামলা ও তাদের লাঞ্চিত করা হয়।
এসময় গুরুতর আহত এমরান ফানুকে প্রথমে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপা তালে ও পরে ঢাকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে ৯দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সাহিদুল ইসলামের বোন সেলি বেগম ৯জনের নাম উল্লেখ ও আরো অজ্ঞাত ২/৩ জনকে আসামী করে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা (মামলা নং -২৪, ২৩-০৩-২০২৫ইংরেজি) দায়ের করলে এই মামলায় প্রধান আসামী কয়েছকে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ চট্রগ্রাম এয়ারপোর্ট থেকে গ্রেপ্তার করে। বাকি আসামীদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মনিরুজ্জামান মোল্যা বলেন, এ ঘটনায় প্রধান আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামীদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।