• ২৩শে মে, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৫শে জিলকদ, ১৪৪৬ হিজরি

শাবিপ্রবিতে নারী শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ:

নারী সংস্কার কমিশন ও ‘মৈত্রী যাত্রা’র বিরুদ্ধে চার দফা দাবি

AMZAD
প্রকাশিত ২২ মে, বৃহস্পতিবার, ২০২৫ ১৬:৩৮:২৫
<h6>শাবিপ্রবিতে নারী শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ:</h6> <h4>নারী সংস্কার কমিশন ও ‘মৈত্রী যাত্রা’র বিরুদ্ধে চার দফা দাবি</h4>

 

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) নারী শিক্ষার্থীরা নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন বাতিল এবং ‘নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রা’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন। বৃহস্পতিবার (২২ মে) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে স্বরূপ ইসলামিক কালচারাল অর্গানাইজেশনের ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিবাদে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা হাতে প্ল্যাকার্ড ধরে বিভিন্ন স্লোগান দেন, যেমন: ‘নারী-পুরুষ বাইনারি, এই শর্তেই দেশ গড়ি’, ‘যৌন কর্মী স্বীকৃতি দান, মায়ের জাতির অপমান’, ‘সমতার নামে নারীর বিকৃতি চলবে না’, ‘নারী সংস্কার কমিশন বাতিল চাই’ ইত্যাদি।

প্রতিবাদকারীদের ভাষ্যে, নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের অনেক প্রস্তাব ইসলাম ধর্ম ও জাতিসত্ত্বার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। জান্নাতুল সুমাইয়া সাফি বলেন, “এই প্রস্তাবনায় বৈবাহিক ধর্ষণকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা দাম্পত্য সম্পর্ককে জটিল করবে এবং পারিবারিক অস্থিরতা বাড়াবে। পতিতাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে বৈধতা দেওয়ার প্রস্তাব সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের কারণ হবে।”

সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী আদিবা সালেহা ‘মৈত্রী যাত্রা’র সমালোচনা করে বলেন, “এতে বাংলাদেশের নারীদের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নেই। উচ্ছৃঙ্খলতা, অশালীন পোশাক এবং ধর্মীয় শিষ্টাচারকে উগ্রবাদ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ট্রান্সজেন্ডার ধারণাকেও নারীমুক্তির নামে প্রমোট করা হচ্ছে, যা সমাজের জন্য হুমকি।”

তারা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন:

  1. নারী সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ও প্রতিবেদন অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
  2. ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল, জনমতের প্রতিফলনকারী প্রতিনিধি নিয়ে নতুন কমিশন গঠন করতে হবে।
  3. পতিতাবৃত্তি নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ ও মানবিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
  4. ধর্মীয় বিধানসমূহকে রক্ষা করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ নারী উন্নয়ন কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে।

এই প্রতিবাদ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নারী বিষয়ক সংস্কারে ধর্মীয় ও সামাজিক বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানান।