যুদ্ধবিরতির সুযোগে ঘরবাড়িতে ফিরে আসা গাজার বাসিন্দাদের ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাতভর চালানো ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৩৪২ জন নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকা পড়ে আছে, ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও কাতারভিত্তিক আল জাজিরা এ খবর নিশ্চিত করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা গাজার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে দক্ষিণের খান ইউনিস ও রাফাহ, উত্তর গাজার গাজা সিটি এবং মধ্যাঞ্চলের দেইর আল-বালাহ এলাকায় ভয়াবহ আক্রমণ চালানো হয়েছে।
হামাস এই হামলাকে ‘বিশ্বাসঘাতক ও কাপুরুষোচিত’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের দাবি, এটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পিত পদক্ষেপ। তারা মধ্যস্থতাকারীদের আহ্বান জানিয়েছে, যেন ইসরায়েলকে ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য সম্পূর্ণ দায়ী’ করা হয়।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি এই হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর তারা ‘ব্যাপক হামলা’ শুরু করেছে।
বিবিসির গাজা প্রতিবেদক জানিয়েছেন, ১৯ জানুয়ারির যুদ্ধবিরতির পর এটি ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বিমান হামলা। গাজার এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, “আমরা আবারও নরকের আগুন দেখতে পাচ্ছি।”
নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, ইসরায়েল এখন হামাসের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি প্রয়োগ করবে এবং জিম্মি মুক্তির বিষয়ে হামাসের ‘অস্বীকৃতি’কে দায়ী করেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদক তারেক আবু আজ্জুম দেইর আল-বালাহ থেকে জানিয়েছেন, হামলা মূলত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, অস্থায়ী স্কুল ও আবাসিক ভবনে চালানো হয়েছে, যেখানে বহু মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল।
তিনি আরও জানান, “আমরা গাজার আকাশে স্পষ্টভাবে ইসরায়েলি ড্রোন ও যুদ্ধবিমান দেখতে পাচ্ছি। নিহতদের মধ্যে নবজাতক, শিশু, নারী ও বৃদ্ধরাও রয়েছেন। এছাড়া কয়েকজন উচ্চপদস্থ হামাস কর্মকর্তা এই হামলায় নিহত হয়েছেন।”
এই হামলার ফলে গাজায় নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে, এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।